গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মরদেহগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে আল-আহলি আরব হাসপাতালে। বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে তাদের পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন।মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি হতাহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া এ হামলায় হামাসের এক জেষ্ঠ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাসিন্দারা এখনও তাদের পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন।
গাজার মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৪২ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ১৫৪ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।এতে আরও বলা হয়, পশ্চিম গাজা সিটিতে বোমা হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ যে নিহত অনেক মানুষের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাদের দেহের খণ্ডাংশ রাস্তা এবং অন্যান্য বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয়।
বেঁচে ফেরা বাসিন্দারা বলেন, সবাই টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি-ঘর সব ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষকে বের করা হচ্ছে। সেহরির কিছুক্ষণ আগে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, তখনই বোমা পড়া শুরু। মনে হলো, পুরো বাড়িটাই আমাদের ওপর ভেঙে পড়ল।
মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজার সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল। তবে বন্দি বিনিময়সহ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনায় সাফল্য আসেনি। এতে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইসরাইল জানিয়েছে, তারা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। স্থল অভিযানেরও হুমকি দিয়েছে তেল আবিব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংঘাতের এই নতুন ধাপে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।